স্ত্রীর ভরণপোষণ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে

স্টাফ রিপোর্টার

মোঃ আসাদুজ্জামান

ইসলামে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ (খোরপোষ) প্রদান করা স্বামীর জন্য একটি ফরজ বা বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। এটি স্ত্রীর একটি মৌলিক অধিকার, যা কুরআন ও একাধিক হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হাদিসের নির্দেশনা:
মু’আবিয়াহ আল-কুশাইরী (রাঃ) বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিস; রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন
“তোমাদের উপর তাদের (স্ত্রীদের) ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের অধিকার রয়েছে”। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ১২১৮; আবূ দাঊদ, হাদিস ১৯০৫)

আরেকটি হাদিসে এই দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

“কোনো ব্যক্তির গোনাহগার হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যাদেরকে পালন করে, তাদেরকে খোরপোষ দেয় না”।
আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা (রাঃ) তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, আবু সুফিয়ান (রাঃ) তাকে পর্যাপ্ত ভরণ-পোষণ দেন না। তখন নবী (সাঃ) হিন্দকে বলেছিলেন
“তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য স্বাভাবিক প্রয়োজন পূরণ হয় এ পরিমাণ (তার সম্পদ থেকে) তুমি নিতে পারো”।
(সহীহ বুখারী, হাদিস ৫৩৬৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস ১৩৩৮) এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, ভরণ-পোষণের পরিমাণ স্বামীর সামর্থ্য ও স্ত্রীর প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।

ভরণ-পোষণের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ :
ইসলামী শরিয়তে ভরণ-পোষণ বলতে শুধু খাবারকেই বোঝায় না, বরং এটি একটি ব্যাপক ধারণা, যার মধ্যে নিম্নলিখিত

বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।
খাদ্য ও পানীয়: পুষ্টিকর ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করা।
পোশাক-পরিচ্ছদ: সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও শোভনীয় পোশাক সরবরাহ করা।
বাসস্থান: স্ত্রীর জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।
চিকিৎসা: আধুনিক অনেক ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের মতে, স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ বহন করাও স্বামীর আবশ্যক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি এসব দায়িত্ব পালন না করে, তবে সে গুনাহগার হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *