কঠিন সময়েই আসল বন্ধু চেনা যায়’, ৮০৭ দিন পর সেঞ্চুরি করে বললেন বাবর

২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর। মাঝে কেটে যায় ৮০৭ দিন। পাকিস্তানের জার্সিতে ৮৩ বার ব্যাট করতে নামেন বাবর আজম। কিন্তু শতকের দেখা একবারও পাননি তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সেঞ্চুরিখরা কাটিয়ে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বললেন, কঠিন সময়েই আসল বন্ধু চিনতে পেরেছেন তিনি।

রাওয়ালপিন্ডিতে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১১৯ বলে ১০২ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন বাবর। এই শতকের সৌজন্যে দীর্ঘ ৮০৭ দিনের সেঞ্চুরিখরা কাটিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার।

একইসঙ্গে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার সাঈদ আনোয়ারের ২০টি ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন দেশটির বর্তমান সময়ের সেরা ব্যাটার। অথচ মাঝের ২৭ মাসে ২০ বার ফিফটি করেও তিন অঙ্ক ছুতে পারেননি বাবর।

লঙ্কানদের বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। 

“সমর্থকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ সমর্থন পেয়েছি, শুধু ইসলামাবাদ নয়, সব জায়গাতে, দারুণ ছিল। পাকিস্তানের সব জায়গায় আমি অনেক সমর্থন পেয়েছি। এটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ভক্তরা কঠিন সময়ে আমাকে ছেড়ে যায়নি। এই ধরনের কঠিন সময়েই বোঝা যায়, আসল বন্ধু কারা।” 

২৮৯ রানের লক্ষ্যে দশম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামেন বাবর। একপ্রান্তে রয়েসয়ে খেলে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান তিনি। নব্বই পেরোনোর পর গ্যালারিতে দর্শকদের মধ্যেও বেড়ে যায় উত্তেজনা। স্নায়ুর চাপ হয়তো ভর করছিল বাবরের ওপর।

জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে প্রমোদ মাদুশানের একটি শর্ট ডেলিভারি অন সাইডে খেলে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাবর। সেই মুহূর্তের আবেগ সামাল দিতে কিছুটা সময়ই নেন তিনি। পরে মাথা নিচু করে হাঁটুতে ভর দিয়ে অনেকটা নীরব উদযাপনই করেন।

“খুবই কঠিন সময় ছিল। তবে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস হারাইনি। যেখানে উন্নতি প্রয়োজন করেছি, নিজের ফিটনেস নিয়েও কাজ করেছি। দিন শেষে এটি বিশ্বাসের ব্যাপার।”

“জীবনে এরকম সময় আসবে এবং আপনি চাইলেই নেতিবাচক ভাবনায় আটকে থাকতে পারেন, উল্টো প্রশ্ন করতে পারেন কেন আপনার সঙ্গে এরকম হচ্ছে। তবে আপনাকে নিজের পরিকল্পনায় অটুট থেকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, (একসময়) পুরস্কার পাবেন।”

সেঞ্চুরি না পাওয়ার কঠিন সময় সম্পর্কে বাবর বললেন, নিজের ওপর বিশ্বাস কখনও হারাননি তিনি। 

“যখনই রানের দেখা পাবেন, আত্মবিশ্বাস অন্য পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অনেক লম্বা সময় ছিল। তবে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস হারাইনি এবং কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে কোনো আপোষ করিনি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।”

“এরকম সময়ে আপনার মনে অনেক ধরনের চিন্তাভাবনা কাজ করে, আপনি ভাবতে পারেন আপনার সঙ্গে কী হচ্ছে। অনেক কোচ আপনার সঙ্গে কথা বলবে, নানা ধরনের পরামর্শ দেবে। এরপর আপনাকে ঠিক করতে হবে, কোনটি আপনার জন্য ঠিক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *