১৭তম জুডিশিয়াল সার্ভিসে বাদ পড়া ১৩ প্রার্থীর প্রতিবাদ :

মোঃ আমির হামজা
ঢাকা জেলা,প্রতিনিধি

রি-ভেরিফিকেশনের নাটক নয়, সরাসরি গেজেট চাই”
১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত মোট ১০২ জনের মধ্যে মাত্র ৮৮ জনকে নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে গেজেট প্রকাশ করেছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বাদ পড়া ১৩ জন প্রার্থী। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত এই প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন—কোনো লিখিত কারণ ছাড়াই তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
বাদ পড়া ১৩ প্রার্থী হলেন—
১.তানসেনা হোসেন মনীষা (রাবি)
২.নিশাত মনি (ঢাবি)
৩.নাহিম হাসান (ঢাবি)
৪.মোঃ রেজাউল ইসলাম (ঢাবি)
৫.অনিক আহমেদ (রাবি)
৬.মাহমুদুল ইসলাম মুন্না (রাবি)
৭.সাদিকুর রহমান (গোপালগঞ্জ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
৮.মামুন হোসেন (জবি) ৯.সাইমন সৈয়দ (চবি)
১০..সাজ্জাদুল হক (ঢাবি)
১১. গগন পাল (রাবি)
১২. সুব্রত পোদ্দার (ববি)
১৩.হুমায়রা মেহনাজ (ইবি)।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন—তবুও গেজেটে নাম নেই
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ১৭তম জুডিশিয়াল সার্ভিসে চূড়ান্তভাবে ১০২ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন। প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত গেজেটে ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি ১৩ জনের নাম কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই বাদ পড়ে।
“আমাদের আত্মীয় রাজনীতি করলে দায় কেন আমাদের?”
বাদ পড়া প্রার্থীদের অভিযোগ, গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রস্তুতে ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, বরং আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সম্পর্ককে ভিত্তি করা হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি সংবিধান, ন্যায়সংগত প্রশাসনিক কাঠামো ও সুশাসনের পরিপন্থী।
একাধিক প্রার্থীর দাবি—তাদের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক, ফৌজদারি মামলা বা চাকরির শর্ত ভঙ্গের ঘটনা নেই। তারা সম্পূর্ণরূপে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচারক হওয়ার সুপারিশ পেয়েছেন।
“রি-ভেরিফিকেশন অযৌক্তিক”
প্রার্থীরা বলেন—একই ধরনের রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও যেখানে ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বাদ পড়া ১৩ জনকে “রি-ভেরিফিকেশন”-এর নামে অপেক্ষায় রাখা বৈষম্যমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তাদের বক্তব্য—“আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই—তাহলে রি-ভেরিফিকেশনের নাটক কেন? সরাসরি গেজেট দিয়ে বাকিদের মতো একই দিনে যোগদান করাতে হবে।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
বিচার বিভাগের মতো সংবেদনশীল ও স্বচ্ছতা-নির্ভর নিয়োগে এমন হঠাৎ বিভাজন প্রশাসনিক পদ্ধতির ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে—এমন মন্তব্য করছেন সাধারণ পর্যবেক্ষকরাও। তাদের মতে, অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বিচার বিভাগে জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জরুরি ব্যাখ্যার দাবি
বঞ্চিত ১৩ প্রার্থী দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তাদের জোর দাবি—যে মানদণ্ডে ৮৮ জনকে গেজেট দেওয়া হয়েছে, একই মানদণ্ডে সকল সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তারা আরও বলেন—“যদি কেউ সরাসরি দেশদ্রোহী না হন, চাকরির শর্ত ভঙ্গ না করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধে জড়িত না থাকেন—তবে গেজেট ভুক্ত করা হোক; যাচাই-বাছাইয়ের নামে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *