মোঃ আমির হামজা
ঢাকা জেলা, প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজধানীতে বসবাসরত ভোলাবাসীর উদ্যোগে শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচ দফা দাবিতে মহাসমাবেশ। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই অবস্থান কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তারা ভোলা অঞ্চলের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধায় দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান দাবি করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, ভোলা দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পবাণিজ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো— সব ক্ষেত্রে জেলাটি অবহেলিত। তারা বলেন, ভোলার সম্পদ শুধু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে, কিন্তু ভোলাবাসী তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন সুবিধা পাচ্ছে না।
পাঁচ দফা মূল দাবি—
১. ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ:
দাবি করা হয়, এই সেতু নির্মাণ হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও কুয়াকাটা অঞ্চলের পরিবহনব্যবস্থা হবে সহজ ও গতিশীল। শিল্প-বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রবাহ বেড়ে যাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
২. ভোলায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন:
ভোলায় বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধা সীমিত উল্লেখ করে আন্দোলনকারী বক্তারা বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা পেতে ভোলাবাসীকে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে যেতে হবে না।
৩. ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা:
সমাবেশে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভোলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে বঞ্চিত। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য জনবল তৈরি হবে।
৪. ভোলায় গ্যাস সংযোগ প্রদান:
বক্তারা অভিযোগ করেন, ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়দের গৃহস্থালী বা শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ সীমাবদ্ধ। স্থানীয় ব্যবহারের জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
৫. ভোলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষ অগ্রাধিকার:
জেলার যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং শিল্প-কারখানাভিত্তিক উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট সতর্কবাণী দেন—
“দাবি আদায় না হলে ভোলা থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ কোনো সম্পদ ভোলার বাইরে যাবে না।”
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলার সম্পদ দেশের বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ করা হলেও ভোলাকে তার সুবিচার দেওয়া হয়নি।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শুধুমাত্র উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সময়সীমা উল্লেখ করে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলোচনা টেবিলে আসার আহ্বান জানানো হয়। তারা জানান, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে ভোলাবাসীর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান রয়েছে।
শাহবাগ এলাকায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও সুশৃঙ্খল ছিল। অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি উপস্থাপন করেন। কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, দাবি পূরণের অগ্রগতি না হলে পরবর্তী ধাপে আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
