আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দৈনিক সূর্যোদয়
জার্মানি সামরিক খাতে একক বছরে রেকর্ড ৫২ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে আধুনিকায়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ, যা বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কী থাকছে এই বিশাল বাজেটে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ৭৩টি বড় সামরিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- F-35 স্টিলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ
- বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার ও নিকটপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র
- ড্রোন প্রযুক্তি
- আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- সামরিক যানবাহন ও ট্যাংক
- সর্বাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ
জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সেনাবাহিনী বুন্দেসভেয়ারকে আধুনিক ও যুদ্ধোপযোগী করে তোলা, যাতে তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।
প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ইউটার্ন
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জার্মানি সামরিক ব্যয়ে অনেকটাই রক্ষণশীল থাকলেও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন, বিশেষত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বার্লিন সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এই উদ্যোগকে বলেছেন “টাইমলির দরকারি বিনিয়োগ”, যা ইউরোপের শান্তি রক্ষায় জার্মানির প্রতিশ্রুতি পুনঃনিশ্চিত করবে।
এই বিশাল সামরিক ব্যয়কে ঘিরে দেশের অভ্যন্তরেও চলছে বিতর্ক, তবে বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকই বলছেন—এই বিনিয়োগ জার্মানির প্রতিরক্ষা নীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।
